** (Yoga)** একটি প্রাচীন শারীরিক, মানসিক, এবং আধ্যাত্মিক চর্চা, যা ভারতে উদ্ভূত। এটি শরীর ও মনের সামঞ্জস্য রক্ষা, মানসিক প্রশান্তি, এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। যোগা মূলত আসন, প্রাণায়াম, ধ্যান এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়।
---
**যোগার মূল ধারণা ও ইতিহাস**
- **অর্থ**: যোগা শব্দটি সংস্কৃত "যুজ্" ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ "সংযুক্ত করা" বা "একত্রিত করা"। এটি আত্মা ও সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার পথ নির্দেশ করে।
- **উৎপত্তি**: প্রাচীন ভারতে প্রায় ৫০০০ বছর আগে যোগার উদ্ভব। এটি প্রথমে বেদ এবং উপনিষদে উল্লেখিত হয়।
- **পতঞ্জলি**: "যোগ সূত্র" নামক গ্রন্থে যোগার মূল দর্শন সংকলন করেন মহর্ষি পতঞ্জলি। তিনি আটটি স্তরের (অষ্টাঙ্গ যোগ) মাধ্যমে যোগার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো দেন।
**যোগার উপকারিতা**
যোগা শরীর, মন এবং আত্মার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে। এর কিছু প্রধান উপকারিতা হলো:
1. **শারীরিক সুস্থতা**:
- শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে।
- পেশি ও হাড়ের শক্তি বাড়ায়।
- রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
2. **মানসিক প্রশান্তি**:
- মানসিক চাপ কমায়।
- ঘুমের মান উন্নত করে।
- মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
- হতাশা ও উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে।
3. **আধ্যাত্মিক উন্নতি**:
- নিজস্ব সত্তা ও মহাবিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন।
- জীবনে ধ্যান ও শান্তি আনে।
---
**যোগার ধরণ**
যোগার বিভিন্ন শৈলী ও পদ্ধতি আছে। প্রতিটি শৈলীর লক্ষ্য আলাদা:
1. **হঠ যোগা**: শরীরকে নমনীয় ও শক্তিশালী করার উপর জোর দেয়।
2. **ভক্তি যোগা**: ভক্তি এবং স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আত্ম উপলব্ধি।
3. **জ্ঞান যোগা**: জ্ঞান ও দর্শনের মাধ্যমে মোক্ষ লাভের পথ।
4. **কর্ম যোগা**: নিষ্কাম কর্ম এবং সেবার মাধ্যমে আত্মসাধনা।
5. **রাজ যোগা**: ধ্যান এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ।
6. **কুন্ডলিনী যোগা**: শক্তি জাগ্রত করা।
7. **আশঙ্গা যোগা**: পদ্ধতিগত শারীরিক এবং মানসিক চর্চা।
---
**যোগার প্রধান উপাদান**
1. **আসন (Asana)**: বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গি, যা শরীরকে নমনীয় এবং মজবুত করে।
- উদাহরণ: সূর্য নমস্কার, পদ্মাসন, ত্রিকোণাসন।
2. **প্রাণায়াম (Pranayama)**: শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ, যা মনকে স্থির ও শান্ত রাখে।
- উদাহরণ: নাড়ি শুদ্ধি, কপালভাতি।
3. **ধ্যান (Dhyana)**: মনোযোগ এবং চিন্তাকে একাগ্র করা।
- উদাহরণ: অনুলোম-ভিলোম, মন্ত্র ধ্যান।
4. **মুদ্রা (Mudra)**: নির্দিষ্ট হাতের ভঙ্গি যা শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে পরিচালনা করে।
5. **বন্দ (Bandha)**: শরীরের নির্দিষ্ট অংশে শক্তি নিয়ন্ত্রণ।
6. **শুদ্ধি (Shatkarma)**: শরীর শুদ্ধ করার ছয়টি প্রক্রিয়া।
---
**যোগা চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় টিপস**
1. প্রাতঃকালে যোগা করা সবচেয়ে ভালো।
2. যোগার জন্য নীরব ও পরিষ্কার স্থান নির্বাচন করুন।
3. নরম ম্যাট বা চট ব্যবহার করুন।
4. খালি পেটে যোগা চর্চা করা উচিত।
5. শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর মনোযোগ দিন।
6. ধীরে ধীরে শুরু করুন এবং ধৈর্য ধরে চর্চা করুন।
---
**যোগার বিশ্বজুড়ে প্রসার**
- ২০১৪ সালে জাতিসংঘ ২১ জুনকে **আন্তর্জাতিক যোগা দিবস** ঘোষণা করে।
- আধুনিক যুগে যোগা শারীরিক ব্যায়াম, মানসিক উন্নতি এবং জীবনধারার অংশ হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে।
---
**যোগা শেখার জন্য কিছু জনপ্রিয় আসন**
1. **তাড়াসন (Tadasana)**: শরীরকে সোজা ও স্থির রাখার জন্য।
2. **ভুজঙ্গাসন (Bhujangasana)**: মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার জন্য।
3. **শবাসন (Shavasana)**: সম্পূর্ণ দেহকে শিথিল করার জন্য।
4. **বালাসন (Balasana)**: মনের প্রশান্তি ও শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য।
5. **উত্তানাসন (Uttanasana)**: শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধির জন্য।
যোগা চর্চা করলে নিয়মিতভাবে শারীরিক ও মানসিক উন্নতি দেখা যায়। এটি শুধু ব্যায়াম নয়, বরং একটি জীবনযাত্রার পথ।